৮৩। সূরা আল মুতফফিফীন (প্রতারনাকারী)
সূরার সারসংক্ষেপঃ ১ম অংশ (আয়াত ১-৩) তে যারা সঠিক পরিমানে কেনা-বেচা (আদান-প্রদান) করে না তাদের দূর্ভোগ (ওয়াইল বলতে খারাপতম দূর্ভোগ বোঝায় আবার জাহান্নামের খুবই খারাপ একটা স্থান বুঝায় যার থেকে স্বয়ং জাহান্নাম পানাহ চায়) এর সংবাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের মানুষ খুব অল্প পরিমানে অনিয়ম করে বা কম দেয় বা বেশি নেয় যা ধরা কঠিন। এরা সিস্টেমকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে চায়। এটা শুধু কেনা বেচার ক্ষেত্রে নয় বরং সব ধরনের বিশ্বাস বা চুক্তির ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন চাকরী, আনুগত্য, বিবাহ ইত্যাদি।
২য় অংশে (আয়াত ৪-১৭) ঐ ধরনের আদান প্রদানকারীসহ অন্য সীমালঙ্ঘনকারীদের আখিরাতে খারাপ পরিনতির কথা বর্ননা করা হয়েছে কারন তারা মনে করতো তাদের এই চালাকি ধরার কেউ নাই। তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু আসলে সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে (তাদের ঐ সূক্ষ চালাকি/অনিয়মের চাইতে বেশি সূক্ষভাবে) সব কিছু লিপিবদ্ধ করা হয়।
৩য় অংশে (আয়াত ১৮-২৮) যারা এসব থেকে বেঁচে থাকে আখিরাতে তাদের ভালো পরিনতির কথা বর্ননা করা হয়েছে। তাদের ভালো কাজ ও সুরক্ষিত অবস্থায় লিপিবদ্ধ করা হয়।
৪র্থ অংশে দুনিয়াতে ভালো লোকদের প্রতি খারাপ লোকদের ব্যবহার এর বিষয়টি ফুটে উঠেছে এমন যেন জান্নাতিরা পুরাতন দিনের কথা মনে করবে। অপরাধীরা শুধু অপরাধ করেই চুপ থাকতো না বরং সেই অপরাধের বড়াই করে দুনিয়ায় ভালো মানুষদের অপমান করতো নানা ভাবে, ভঙ্গিমায়। সেই বিষয়টি আল্লাহ খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন এখানে।
৫ম অংশে (আয়াত ৩৪-৩৬) ভালো লোকেরা আখিরাতে খারাপ লোকদের পরিনতি দেখতে পাবে এবং মনে প্রশান্তি পাবে, তাদের প্রতি চরম জুলুমের প্রতিদান পেতে দেখে।
সুতরাং এভাবে দেখা যেতে পারেঃ
আগের সূরার সাথে সম্পর্কঃ ৮২ নং সূরা আল ইনফিতর এর ৭ নং আয়াতে আল্লাহ মানুষকে পারফেক্টলি ব্যালান্সড ভাবে তৈরি করেছেন তা বলছেন। আবার শেষ বিচারের দিনও আল্লাহ পারফেক্ট বিচার করবেন বলে সূরার শেষে আল্লাহ জানিয়েছেন (আয়াত ১৯)। এই সূরার (৮৩ তম সূরা আল মুতফফিফীন) শুরুতে আল্লাহ দেখিয়েছেন যে মানুষ বিচার ফয়সালার ক্ষমতা মানুষের হাতে দিলে কিছু মানুষ কি চরম চালাকি, অনিয়ম করে! তারা মাপে কম দেয়, আদান-প্রদানে কম বেশি করে।
আগের সূরায় আমলনামার সঠিক Documentation এর ব্যাপারে বলা হয়েছে (আয়াত ১০-১২)। আর এই সূরায় আমলনামার নিরাপদ Preservation এর কথা বলা হয়েছে (আয়াত ৭-৯, ১৯-২১)।
পরের সূরার সাথে সম্পর্কঃ এই সূরায় আমলনামার নিরাপদ Preservation এর কথা বলা হয়েছে (আয়াত ৭-৯, ১৯-২১)। আর পরের (৮৪ তম) সূরা আল ইনশিক্বক এ আমলনামার সঠিক Handover ও Presentation এর কথা বলা হয়েছে আয়াত ৭-১২ তে। কি অসাধারন সিকুয়েন্স!
বিশেষ বিষয়ঃ আল কুরআনে ২ টি সূরা ‘ওয়াইল’ (ধবংস) দিয়ে শুরু হয়েছে। ২ টি সূরা হলো ৮৩ তম সূরা আল মুতাফফিফীন ও ১০৪ তম সূরা আল হুমাযা। এই দুই সূরাতেই সম্পদের লোভে মোহাচ্ছন্ন মানুষদের জন্য ধবংস এর কথা বলা হয়েছে।উপরের নোটের কিছু অংশ উস্তাদ নোমান আলী খান এর বিভিন্ন লেকচার এবং ইন্টারনেট থেকে কিছু ভিডিও, ছবি থেকে অনুপ্রানীত হয়ে সম্পাদনা করে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরআন সম্পর্কে



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন